সরকারের সিদ্ধান্ত ছাড়াই সয়াবিন তেলের দাম বাড়ানোর উদ্যোগ
দিগন্ত জার্নাল ডেস্ক:
৪ এপ্রিল ২০২৫, আন্তর্জাতিক বাজারে সয়াবিন তেলের দাম কমলেও এবং শুল্কছাড়ের সুবিধায় ব্যাপক আমদানি হওয়া সত্ত্বেও দেশে বোতলজাত সয়াবিন তেলের লিটারপ্রতি ১৮ টাকা ও খোলা তেলের দাম ১৩ টাকা বাড়ানোর পরিকল্পনা করেছে মিলাররা। সরকারের অনুমোদন ছাড়াই এই মূল্যবৃদ্ধির সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে।
বাজার বিশ্লেষণে দেখা গেছে, ঈদের ছুটির আগে ২৭ মার্চ বাংলাদেশ ভেজিটেবল অয়েল রিফাইনার্স অ্যান্ড বনস্পতি ম্যানুফ্যাকচারার্স অ্যাসোসিয়েশন ট্যারিফ কমিশনের কাছে মূল্যবৃদ্ধির আবেদন করে। তবে ছুটি থাকায় বাণিজ্য মন্ত্রণালয় বা ট্যারিফ কমিশন কোনো সিদ্ধান্ত জানাতে পারেনি। এরই মধ্যে ব্যবসায়ীরা নিজেদের মতো করে ১ এপ্রিল থেকে নতুন দর কার্যকরের পরিকল্পনা করেছে।
রাজধানীর বিভিন্ন বাজারের ব্যবসায়ীরা জানিয়েছেন, কোম্পানিগুলো ঈদের পর দাম বাড়ানোর কথা বললেও তারা এখনও চাহিদাপত্র সংগ্রহ করেনি। তবে আগামী রোববার থেকে নতুন দামে তেল বাজারে ছাড়ার সম্ভাবনা রয়েছে। ফলে বোতলজাত সয়াবিন তেলের লিটারপ্রতি মূল্য হবে ১৯৩ টাকা এবং খোলা সয়াবিন ১৭০ টাকা, যদিও কিছু বাজারে ইতোমধ্যে খোলা তেল ১৭২-১৭৩ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।
বাংলাদেশ ব্যাংক, আমদানি-রপ্তানি নিয়ন্ত্রকের কার্যালয়, ট্যারিফ কমিশন ও বন্দর সূত্রে জানা গেছে, চলতি অর্থবছরের জানুয়ারি পর্যন্ত দেশে ১০ লাখ ৯৫ হাজার ৫২৫ টন সয়াবিন ও পামতেল আমদানি হয়েছে। এতে বাজারে তেলের কোনো সংকট নেই।
কনজুমারস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (ক্যাব) ভাইস প্রেসিডেন্ট এসএম নাজের হোসাইন বলেছেন, ৩১ মার্চ পর্যন্ত শুল্কছাড়ের আওতায় আমদানি করা তেল ৪৫ দিন পর বাজারে আসার কথা, তাই এখনই দাম বাড়ানো অযৌক্তিক ও ব্যবসায়ীদের কারসাজি। অন্যদিকে মিলাররা দাবি করেছে, ১০ মার্চ ট্যারিফ কমিশনের কাছে তারা মূল্যবৃদ্ধির আবেদন করেছিল, তবে কোনো প্রতিক্রিয়া না পাওয়ায় ২৭ মার্চ ফের আবেদন করা হয়।
এদিকে বাংলাদেশ ট্রেড অ্যান্ড ট্যারিফ কমিশন শুল্কছাড় সুবিধা ৩০ জুন পর্যন্ত বাড়ানোর সুপারিশ করেছে, যাতে বাজার স্থিতিশীল থাকে। এখন দেখার বিষয়, সরকার এই মূল্যবৃদ্ধির সিদ্ধান্ত অনুমোদন দেয় কি না এবং ভোক্তাদের স্বার্থ কতটা রক্ষা করা হয়।