৬১৬ কোটি টাকা আত্মসাৎ: মিডল্যান্ড ব্যাংকের সাবেক পরিচালক বাদশার বিরুদ্ধে তদন্ত
দিগন্ত জার্নাল ডেস্ক:
শনিবার, ৫ এপ্রিল ২০২৫ । মিডল্যান্ড ব্যাংকের উদ্যোক্তা পরিচালক ও বোর্ড অডিট কমিটির সাবেক সদস্য মোহাম্মদ ইসা বাদশা দেশের কয়েকটি ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠান থেকে প্রায় ৬১৬ কোটি টাকা আত্মসাৎ করে বর্তমানে কানাডায় অবস্থান করছেন বলে জানা গেছে। বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্দেশনায় ঋণখেলাপি হওয়ার কারণে সম্প্রতি তাকে ব্যাংকের পরিচালক পদ থেকে অপসারণ করা হয়।
ইসা বাদশা ও তার প্রতিষ্ঠানের নামে ইস্টার্ন ব্যাংক, শাহ্জালাল ইসলামী ব্যাংক ও মেঘনা ব্যাংকসহ একাধিক প্রতিষ্ঠানে বড় অঙ্কের ঋণ খেলাপি থাকায় তাকে সন্দেহভাজন হিসেবে চিহ্নিত করেছে বাংলাদেশ ফাইন্যান্সিয়াল ইন্টেলিজেন্স ইউনিট (বিএফআইইউ)। তাদের সাম্প্রতিক এক প্রতিবেদনে ইসা বাদশা ও তার পরিবারের বিরুদ্ধে অর্থপাচারের বিস্তৃত তথ্য উঠে এসেছে, যা নিয়ে বর্তমানে সিআইডি ও দুদক যৌথ তদন্ত শুরু করেছে।
বিএফআইইউর তথ্য অনুযায়ী, ২০২৩ সালের মে মাস পর্যন্ত ইসা বাদশা ও তার স্বার্থসংশ্লিষ্টদের নামে পরিচালিত ২৬৩টি ব্যাংক হিসাবে প্রায় ৬,২৯৯ কোটি টাকা জমা এবং ৬,২৯৩ কোটি টাকা উত্তোলনের প্রমাণ মিলেছে। বর্তমানে এসব হিসাবে মাত্র ৬ কোটি টাকার স্থিতি রয়েছে। এছাড়া খেলাপি ঋণ হিসেবেই ৬১৬ কোটি টাকা অবলোপন করা হয়েছে, এবং তার নামে প্রায় ৪ কোটি ৬৩ লাখ টাকার মেয়াদোত্তীর্ণ ব্যাংক গ্যারান্টির অস্তিত্ব পাওয়া গেছে।
বিদেশে অর্থপাচারের বিষয়ে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, ইসা বাদশা কানাডার বিভিন্ন ব্যাংকে নিজের, স্ত্রী সালমা বাদশা, কন্যা মুমতাহীনা মুন্নু এবং অন্যান্য আত্মীয়দের নামে পরিচালিত যৌথ ও একক হিসাবে লক্ষ লক্ষ ডলারের সন্দেহজনক লেনদেন (এসটি), বড় অঙ্কের নগদ লেনদেন (এলসিটিআর) এবং বৈদ্যুতিন অর্থ স্থানান্তরের (ইএফটিআর) তথ্য পাওয়া গেছে। সিঙ্গাপুরের সিটি ব্যাংক এনএ থেকে কানাডার ব্যাংকে তার নির্দেশে প্রায় ৬ লাখ ১৩ হাজার মার্কিন ডলার পাঠানো হয়, যার মধ্যে ৩ লাখ ডলার সম্পত্তি ক্রয়ের জন্য ব্যবহৃত হয়েছে।
তথ্য অনুযায়ী, ইসা বাদশা সিঙ্গাপুরভিত্তিক প্রতিষ্ঠান যেমন সিলভিয়া শিপ ট্রেড, অল সিজ হোল্ডিংস, ডেমো ইন্টারন্যাশনাল, রেড রুবি গ্রুপ, এস শিপ রিসাইক্লিং প্রাইভেট লিমিটেডসহ একাধিক বিদেশি কোম্পানির সঙ্গে এলসির মাধ্যমে জাহাজ ভাঙা ও যন্ত্রপাতি আমদানির মাধ্যমে মোটা অঙ্কের অর্থ দেশের বাইরে পাঠিয়েছেন।
বিএফআইইউর তদন্তে দেখা যায়, এসব প্রতিষ্ঠান অনেক ক্ষেত্রেই অফশোর ভিত্তিক এবং খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে না। কিছু কোম্পানি যেমন ডানা ইন্টারন্যাশনাল করপোরেশন ও উরিজেন শিপিং লিমিটেড ব্রিটিশ ভার্জিন আইল্যান্ড ও সেইন্ট কিটস অ্যান্ড নেভিসে নিবন্ধিত, যাদের বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিকভাবে অর্থ পাচারের অভিযোগ রয়েছে।
এছাড়া, দেশে থেকেও যুমা এন্টারপ্রাইজ, মুসা অ্যান্ড ইসা ব্রাদার্সের মাধ্যমে কয়েক কোটি টাকার লোকাল এলসির কার্যক্রম পরিচালনা করা হয়েছে, যার অধিকাংশের পণ্য আমদানির তথ্য অস্পষ্ট।
বাংলাদেশ ব্যাংকের ফরেন এক্সচেঞ্জ ইনভেস্টমেন্ট ডিপার্টমেন্ট নিশ্চিত করেছে, মোহাম্মদ ইসা বাদশাকে দেশের বাইরে কোনো বিনিয়োগের অনুমোদন দেওয়া হয়নি। ফলে তার কানাডা ও সিঙ্গাপুরে বিপুল পরিমাণ বিনিয়োগ ও সম্পত্তি ক্রয় আইনবিরুদ্ধ বলে প্রতীয়মান হচ্ছে।
এই ঘটনায় ইসা বাদশা ও সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে যথাযথ আইনি ব্যবস্থা গ্রহণে উদ্যোগ নিচ্ছে সংশ্লিষ্ট তদন্তকারী সংস্থাগুলো।