ব্যাংক খাতে লুটপাটের ধাক্কা, দেউলিয়া হওয়ার পথে ১১ ব্যাংক - দিগন্ত জার্নাল

ব্যাংক খাতে লুটপাটের ধাক্কা, দেউলিয়া হওয়ার পথে ১১ ব্যাংক

দিগন্ত জার্নাল ডেস্ক:

মঙ্গলবার, ৮ এপ্রিল ২০২৫ || গত দেড় দশকে বাংলাদেশ ব্যাংকিং খাতে নজিরবিহীন লুটপাট, অনিয়ম ও দুর্নীতির ঘটনা ঘটেছে। বিশেষ করে ক্ষমতাসীন দলের আশীর্বাদপুষ্ট কিছু ব্যবসায়ী গোষ্ঠী—যেমন এস আলম গ্রুপ, বেক্সিমকো, নাসা গ্রুপ, কেডিএস প্রমুখ—ব্যাংকগুলো থেকে হাজার হাজার কোটি টাকা তুলে নিয়ে গেছে। এ অবস্থায় দেশের অন্তত ১১টি ব্যাংক চরম সংকটে পড়েছে। বাংলাদেশ ব্যাংকের সর্বশেষ বিশ্লেষণে দেখা গেছে, এই ব্যাংকগুলোর কোনোটি এখনই দেউলিয়া ঘোষণা করলে সরকারকে আমানতকারীদের ক্ষতিপূরণ দিতে প্রয়োজন হবে প্রায় ৫০ হাজার কোটি টাকা।

সংকটে থাকা ব্যাংকগুলো হলো:
ইসলামী ব্যাংক বাংলাদেশ, ইউনাইটেড কমার্শিয়াল ব্যাংক (ইউসিবি), ফার্স্ট সিকিউরিটি ইসলামী ব্যাংক, আল-আরাফাহ ইসলামী ব্যাংক, এক্সিম ব্যাংক, আইএফআইসি ব্যাংক, ন্যাশনাল ব্যাংক, ইউনিয়ন ব্যাংক, সোশ্যাল ইসলামী ব্যাংক, গ্লোবাল ইসলামী ব্যাংক এবং বাংলাদেশ কমার্স ব্যাংক।

বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্যমতে, এসব ব্যাংকের গ্রাহক সংখ্যা প্রায় চার কোটি এবং মোট আমানতের পরিমাণ প্রায় চার লাখ কোটি টাকা। এর মধ্যে ৯১ শতাংশ গ্রাহকের আমানত দুই লাখ টাকার নিচে। তবে বর্তমান আমানত বিমা আইনে ক্ষতিপূরণের সর্বোচ্চ সীমা মাত্র এক লাখ টাকা, যা বাড়িয়ে দুই লাখ করার উদ্যোগ চললেও এখনো কার্যকর হয়নি।

বিশাল অঙ্কের লোন কেলেঙ্কারির তালিকায় শীর্ষে আছে এস আলম গ্রুপ, যারা এককভাবে ইসলামী ব্যাংক থেকে নিয়েছে এক লাখ পাঁচ হাজার কোটি টাকা, ফার্স্ট সিকিউরিটি থেকে ৪৫ হাজার কোটি টাকা, এবং আরও কয়েকটি ব্যাংক থেকে হাজার হাজার কোটি টাকা। একইভাবে বেক্সিমকো গ্রুপ আইএফআইসি ব্যাংক থেকে নিয়েছে সাড়ে ১৩ হাজার কোটি টাকা।

এসব গোষ্ঠী ব্যাংকের পর্ষদ নিয়ন্ত্রণ করত এবং রাজনৈতিক প্রভাবের কারণে দীর্ঘদিন তারা অনায়াসে এসব অর্থ সংগ্রহ করতে সক্ষম হয়েছে।

বর্তমানে বাংলাদেশ ব্যাংক বিভিন্ন ব্যাংকের পর্ষদ পুনর্গঠনের কাজ শুরু করেছে। যদিও তাতে সংকট নিরসনের লক্ষণ এখনো স্পষ্ট নয়। মুখপাত্র আরিফ হোসেন খান জানিয়েছেন, আমানত বিমা তহবিলে থাকা অর্থ দিয়ে কেবল দুই লাখ টাকার নিচের আমানতের ৫৬ শতাংশ পর্যন্ত ক্ষতিপূরণ দেওয়া সম্ভব। বাকি অর্থ জোগাড়ে সরকারকেই হস্তক্ষেপ করতে হতে পারে।

সংশ্লিষ্টদের মতে, পরিস্থিতি সামাল দিতে হলে কঠোর পদক্ষেপ, দায়ীদের জবাবদিহি এবং কাঠামোগত সংস্কার ছাড়া উপায় নেই। বাংলাদেশ ব্যাংক এ অবস্থায় দেউলিয়া ব্যাংকগুলো একীভূত করার অথবা বন্ধ করে দেওয়ার মতো সিদ্ধান্ত বিবেচনা করছে।

an adbox will go here