সিলেট ওসমানী বিমানবন্দর থেকে প্রথম কার্গো ফ্লাইট চালু
নিজস্ব প্রতিবেদক:
রবিবার, ২৭ এপ্রিল ২০২৫ | ভারত বাংলাদেশের রপ্তানি পণ্যের ট্রানজিট সুবিধা স্থগিত করার পর প্রথমবারের মতো আজ রবিবার সকালে সিলেট ওসমানী আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে সরাসরি কার্গো ফ্লাইট চালু হয়েছে। এদিন সকাল থেকেই প্রস্তুতি সম্পন্ন করে প্রথম মালবাহী ফ্লাইট পরিচালনা করে গ্যালিস্টেয়ার এভিয়েশন। চার্টার্ড এয়ারবাস এ-৩৩০-৩০০ মডেলের একটি মালবাহী বিমান স্পেনের উদ্দেশে প্রায় ৬০ টন তৈরি পোশাক পণ্য নিয়ে উড্ডয়ন করে। ফ্লাইটের গ্রাউন্ড হ্যান্ডলিং সেবা দিয়েছে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্স।
সিলেট থেকে সরাসরি রপ্তানি পণ্য পরিবহনের এ উদ্যোগের মাধ্যমে ঢাকার পর সিলেট বাংলাদেশের দ্বিতীয় কার্গো পরিচালনাকারী বিমানবন্দরে পরিণত হলো। বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষের (বেবিচক) চেয়ারম্যান এয়ার ভাইস মার্শাল মো. মঞ্জুর কবির ভূঁইয়ার সভাপতিত্বে উদ্বোধনী অনুষ্ঠান হয়। এতে প্রধান অতিথি ছিলেন বেসামরিক বিমান পরিবহণ ও পর্যটন উপদেষ্টা শেখ বশিরউদ্দিন এবং বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন মেক্সিকোতে বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত এম. মুশফিকুল ফজল আনসারী ও বেসামরিক বিমান পরিবহণ ও পর্যটন সচিব নাসরীন জাহান। মালবাহী ফ্লাইটের সম্মানে জল কামান স্যালুট প্রদান করা হয়।
বেবিচক চেয়ারম্যান জানান, সিলেটের আধুনিকায়নকৃত কার্গো টার্মিনাল ইতোমধ্যে উল্লেখযোগ্য পরিমাণে পণ্য পরিবহনের সক্ষমতা অর্জন করেছে। একই সঙ্গে চট্টগ্রামের শাহ আমানত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকেও শিগগির কার্গো ফ্লাইট চালু করা হবে বলে জানান তিনি।
তিনি আরও বলেন, বিমানবন্দরগুলোতে কার্গো চার্জ কমিয়ে আরও সাশ্রয়ী করার জন্য টাস্কফোর্স গঠনের উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে এবং শিগগিরই কম ট্যারিফ ঘোষণা করা হবে। হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের (এইচএসআইএ) বহুল প্রতীক্ষিত তৃতীয় টার্মিনালের নির্মাণকাজ প্রায় শেষের দিকে। এটি চালু হলে বাংলাদেশের রপ্তানি কার্গো সক্ষমতা বছরে ২ লাখ টন থেকে বেড়ে ৫ লাখ ৪৬ হাজার টনে উন্নীত হবে।
এর আগে ভারত বাংলাদেশের তৈরি পোশাকসহ বিভিন্ন পণ্যের ওপর তাদের বিমানবন্দর হয়ে ট্রানজিট সুবিধার চার বছরের চুক্তি বাতিল করে, যার ফলে বাংলাদেশি রপ্তানিকারকদের ওপর অতিরিক্ত চাপ সৃষ্টি হয়। বর্তমানে বাংলাদেশ প্রতি সপ্তাহে প্রায় ৩৪০০ টন তৈরি পোশাক বিমানযোগে রপ্তানি করে। এই উদ্যোগের মাধ্যমে বাংলাদেশের রপ্তানি সক্ষমতা আরও বাড়বে এবং বিকল্প রপ্তানি রুট তৈরি হবে বলে আশাবাদী সংশ্লিষ্টরা।