শেয়ারবাজারে আস্থা সংকট চরমে, নেতৃত্বের অযোগ্যতা নিয়ে ক্ষুব্ধ সংশ্লিষ্টরা
দিগন্ত জার্নাল ডেস্ক:
বুধবার, (৩০ এপ্রিল ২০২৫)
দেশের শেয়ারবাজারে চলছে চরম অস্থিরতা ও অব্যবস্থাপনা। তারল্য ঘাটতি, মূল্যসূচকের ধারাবাহিক পতন, নতুন কোম্পানির অনুপস্থিতি—সব মিলে বিনিয়োগকারীদের মধ্যে আস্থার ভয়াবহ সংকট তৈরি হয়েছে। সংশ্লিষ্টরা প্রশ্ন তুলেছেন, এ বাজার রেখে আসলে লাভ কী? বরং দিন দিন ক্ষতির মাত্রা বাড়ছেই। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই অবস্থার জন্য সবচেয়ে বেশি দায়ী নিয়ন্ত্রক সংস্থা বিএসইসির দুর্বল নেতৃত্ব। বাজারের মধ্যস্থতাকারী প্রতিষ্ঠান, অংশীজন এমনকি কমিশনের কর্মকর্তাদের মধ্যেও রয়েছে এই নেতৃত্বের প্রতি অনাস্থা।
এ অনাস্থার বড় প্রমাণ মিলেছে গত রোববার। বাজার খোলার পর দরপতন চলছিল। হঠাৎ গুজব ছড়ায়, বিএসইসির চেয়ারম্যান ছুটিতে যাচ্ছেন এবং আর ফিরবেন না। এর পরই সূচক ঘুরে দাঁড়ায়। কিন্তু পরে জানা যায়, খবরটি ভিত্তিহীন। পরদিন সোমবার আবার বড় পতনের মুখে পড়ে সূচক।
অভিযোগ রয়েছে, বর্তমান কমিশনের বাজার পরিচালনার দক্ষতা নেই, টেকনিক্যাল খাত সম্পর্কে জ্ঞান নেই এবং যোগ্য নেতৃত্বের অভাব রয়েছে। প্রতিষ্ঠান চালনায় অদক্ষতা, দুর্নীতি, অপেশাদার আচরণ, ও অধীনস্তদের সঙ্গে খারাপ ব্যবহার সব মিলিয়ে বাজারের ওপর ক্ষোভ বাড়ছে। বলা হচ্ছে, একজন প্রভাবশালীর বন্ধুর মেয়ের জামাই হওয়ায় বর্তমান চেয়ারম্যান পদে বহাল রয়েছেন।
গত ৮ মাসে সূচকের পতন হয়েছে ১,০৬২ পয়েন্ট এবং বাজার মূলধন কমেছে ৫১ হাজার কোটি টাকা। গড় লেনদেনও ৭০০ কোটি টাকা থেকে কমে ৩০০ কোটির নিচে নেমে এসেছে। বিএসইসি কিছু জরিমানা করলেও সেগুলোর আদায় অনিশ্চিত এবং তা বাস্তব সুফল বয়ে আনছে না বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
বাজারের বিশ্লেষণে দেখা যায়, ৫ আগস্ট রাজনৈতিক পরিবর্তনের পর দেশের অন্যান্য খাতে ইতিবাচকতা এলেও শেয়ারবাজারে সেই ছোঁয়া লাগেনি। স্টক এক্সচেঞ্জের পর্ষদ গঠনসহ নতুন কমিশনের সিদ্ধান্তগুলো বিতর্ক তৈরি করেছে।
এমনকি বড় লেনদেনকারী কিছু প্রতিষ্ঠানের অ্যাকাউন্ট বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত বিনিয়োগকারীদের ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে। বিশ্লেষকরা বলছেন, ব্যক্তিগত অ্যাকাউন্ট বন্ধ থাকা স্বাভাবিক, কিন্তু প্রতিষ্ঠানের অ্যাকাউন্ট বন্ধ হলে ক্ষতিগ্রস্ত হন সাধারণ বিনিয়োগকারীরাও।
সাবেক তত্ত্বাবধায়ক সরকারের উপদেষ্টা ড. এবি মির্জ্জা আজিজুল ইসলাম বলেন, আস্থার সংকটই বাজারের মূল সমস্যা। সুশাসন নিশ্চিত করে বিনিয়োগকারীদের আস্থা ফিরিয়ে আনতে হবে এবং ভালো শেয়ারের সরবরাহ বাড়াতে হবে। তা না হলে বাজারে ইতিবাচক পরিবর্তন আশা করা যাবে না।