আইএমএফের শর্ত বাস্তবায়নে অর্থনীতি টেকসই পথে, মূল্যস্ফীতির চাপে নিয়ন্ত্রণে উদ্যোগ - দিগন্ত জার্নাল

আইএমএফের শর্ত বাস্তবায়নে অর্থনীতি টেকসই পথে, মূল্যস্ফীতির চাপে নিয়ন্ত্রণে উদ্যোগ

দিগন্ত জার্নাল অর্থনীতি

শুক্রবার , (১৬ মে ২০২৫) আন্তর্জাতিক অর্থ তহবিলের (আইএমএফ) সহায়তায় সরকারের নেওয়া সংস্কারধর্মী পদক্ষেপগুলো বাংলাদেশের অর্থনীতিকে দীর্ঘমেয়াদে টেকসই ও শক্ত ভিতের ওপর প্রতিষ্ঠিত করতে কাজ করছে। এরই অংশ হিসেবে ডলারের বিনিময় হার বাজারের ওপর ছেড়ে দেওয়া হয়েছে। এতে স্বল্পমেয়াদে টাকার মান কিছুটা কমলেও রপ্তানি ও রেমিট্যান্স প্রবাহ বাড়বে বলে আশা করছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক। ফলে বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভও বাড়বে এবং আর্থিক খাতে স্থিতিশীলতা ফিরে আসবে।

অর্থনীতিবিদদের মতে, মূল্যস্ফীতির হার নিয়ন্ত্রণে রাখতে হলে কড়াকড়িভিত্তিক মুদ্রানীতি অনুসরণ অব্যাহত রাখা জরুরি। বর্তমানে মূল্যস্ফীতির হার নিম্নমুখী হলেও বৈশ্বিক অর্থনৈতিক পরিস্থিতি ও অভ্যন্তরীণ ব্যয়ের কাঠামোর কারণে এটি আবারও কিছুটা চাপে পড়তে পারে। তবে কেন্দ্রীয় ব্যাংক আশাবাদী—ডলার বাজার নজরদারিতে থাকায় এবং রেমিট্যান্স ও রপ্তানি আয় বৃদ্ধির ফলে বড় ধরনের অস্থিরতা তৈরি হবে না।

বর্তমানে দেশের ব্যাংকগুলো গড়ে ১২২ টাকায় রেমিট্যান্স কিনছে এবং ১২৩ টাকায় বিক্রি করছে। বাজারভিত্তিক হারে লেনদেন হলেও কোনো ব্যাংক যেন অতিরিক্ত দাম না চায়, সে বিষয়েও কেন্দ্রীয় ব্যাংক সক্রিয় রয়েছে। পাশাপাশি, প্রয়োজনে ব্যাংকগুলোকে ডলারের জোগান দেবে বলেও জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ।

মূল্যস্ফীতির লাগাম টানতে ইতোমধ্যে সরকার বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ নিয়েছে—যেমন, কঠোর মুদ্রানীতি অনুসরণ, সরকারের কেন্দ্রীয় ব্যাংক থেকে ঋণ গ্রহণ বন্ধ রাখা, ডলার বাজারে স্থিতিশীলতা আনা এবং প্রয়োজনীয় ক্ষেত্রে আমদানি নিয়ন্ত্রণ। এসব পদক্ষেপের ফলে মূল্যস্ফীতির হার ধীরে ধীরে কমছে। গত এপ্রিল মাসে সামগ্রিক মূল্যস্ফীতি ৯ দশমিক ১৭ শতাংশে নেমে এসেছে, খাদ্য মূল্যস্ফীতি ৮ শতাংশের ঘরে এসেছে, যা আগের তুলনায় ইতিবাচক অগ্রগতি।

তবে কিছু চ্যালেঞ্জও রয়েছে। কঠোর মুদ্রানীতির ফলে বেসরকারি খাতে বিনিয়োগ কিছুটা কমেছে, ফলে কর্মসংস্থানের গতি মন্থর হচ্ছে। এছাড়া আইএমএফের ব্যয়সংকোচন নীতির কারণে সামাজিক নিরাপত্তা খাতে বরাদ্দ কিছুটা কমতে পারে, যা স্বল্প আয়ের জনগণের জন্য চাপ তৈরি করতে পারে। বিদ্যুৎ খাতে ভর্তুকি হ্রাসের বিষয়টি বাস্তবায়িত হলে দাম বাড়তে পারে, যার প্রভাব পড়বে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য ও সেবার মূল্যে।

তবু অর্থনীতিবিদ ও বিশেষজ্ঞরা বলছেন—আইএমএফের অনেক শর্ত যেমন কঠিন, তেমনি দীর্ঘমেয়াদে ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে। ব্যাংক খাতকে সুসংগঠিত করতে সুনির্দিষ্ট রোডম্যাপ তৈরি ও বাস্তবায়ন, কেন্দ্রীয় ব্যাংকের স্বাধীনতা নিশ্চিতকরণ, আর্থিক খাতের স্বচ্ছতা বাড়ানো ও বিনিয়োগবান্ধব পরিবেশ তৈরির উদ্যোগ অর্থনীতির জন্য মজবুত ভিত্তি গড়বে।

বিশ্লেষকদের মতে, বর্তমান সরকার যেভাবে এসব শর্তকে ভারসাম্যপূর্ণভাবে বাস্তবায়ন করছে, তা অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতার দিকে একটি সাহসী ও দূরদর্শী পদক্ষেপ। সংযমী নীতিমালা ও কাঠামোগত সংস্কারের মাধ্যমে বাংলাদেশ অর্থনীতিকে আরও টেকসই ও আত্মনির্ভরশীল করে তুলতে পারবে।

an adbox will go here