সরকার বাড়ালেও চামড়ায় মেলেনি কাঙ্ক্ষিত দাম, ক্ষতিগ্রস্ত গরিবরা
অর্থনীতি ডেস্ক:
সোমবার, (৯ জুন ২০২৫) সরকারি সিদ্ধান্ত অনুযায়ী কুরবানির পশুর চামড়ার দাম কিছুটা বাড়ানো হলেও বাজারে কাঙ্ক্ষিত মূল্য মেলেনি বলে অভিযোগ করেছেন মৌসুমি ব্যবসায়ীরা ও সাধারণ কুরবানিদাতারা। এতে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন গরিব, অসহায় ও মিসকিনরা—যাদের সাহায্যেই মূলত এই চামড়ার মূল্য ব্যয় করার প্রথা রয়েছে।
চলতি বছর বাণিজ্য মন্ত্রণালয় রাজধানীতে প্রতি বর্গফুট গরুর কাঁচা চামড়ার দাম নির্ধারণ করেছিল ৬০ থেকে ৬৫ টাকা। কিন্তু বাজারে বাস্তবে তা ৫৫ থেকে ৬০ টাকা, এমনকি কোথাও কোথাও আরও কম দামে বিক্রি হয়েছে।
লবণ ছাড়া বড় ও মাঝারি গরুর চামড়া ঢাকায় ৬০০ থেকে ৯০০ টাকায় বিক্রি হলেও ছোট এবং কম মানের চামড়া ৩০০ থেকে ৬০০ টাকার মধ্যেই সীমাবদ্ধ ছিল। ঢাকার বাইরে এসব চামড়ার দাম আরও কম দেখা গেছে।
চামড়া ব্যবসায়ীরা বলছেন, তারা গরুর চামড়া সর্বোচ্চ ৫০০ থেকে ৭৫০ টাকায় কিনেছেন, যা ট্যানারি মালিকদের কাছে ৬০০ থেকে ৯০০ টাকায় বিক্রি করতে হয়েছে। তবে প্রতি বছর ট্যানারি মালিকদের অনাগ্রহ ও দেরিতে মূল্য পরিশোধের কারণে চামড়া কিনতে অনীহা বাড়ছে ব্যবসায়ীদের মধ্যে।
রাজধানীর এক ব্যবসায়ী নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানান, সর্বোচ্চ ৮২০ টাকায় ভালো মানের চামড়া বিক্রি হয়েছে, এর বেশি দামে কোনোভাবেই বিক্রি সম্ভব হয়নি। অন্যদিকে বাড্ডার আরেক ব্যবসায়ী অভিযোগ করেন, চাহিদা কম ও পরিবহন খরচ বেশি হওয়ায় লাভ তো হয়নি বরং লোকসানে পড়তে হয়েছে।
ট্যানারি মালিকদের পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছে, ১২০০ থেকে ১৫০০ টাকায়ও ভালো মানের কিছু চামড়া কেনা হয়েছে। তারা জানান, বাণিজ্য মন্ত্রণালয় যে দাম নির্ধারণ করেছে তা মূলত লবণযুক্ত প্রস্তুত চামড়ার জন্য, কাঁচা চামড়ার ক্ষেত্রে দাম তুলনামূলক কম হয়।
এদিকে গত বছরের মতো এবারও ছাগলের চামড়ার বাজার একেবারে নিষ্প্রভ। চাহিদা না থাকায় অনেকেই ছাগলের চামড়া সংগ্রহ করতে অনাগ্রহী ছিলেন।
ট্যানারি ও আড়তদারদের ভাষ্যমতে, এবার ঈদে ৮০-৮৫ লাখ পিস চামড়া সংগ্রহের লক্ষ্যমাত্রা ছিল। ঈদের দিনই সংগ্রহ সন্তোষজনক হলেও মূল বাজারে দরপতনের কারণে প্রত্যাশা অনুযায়ী বাণিজ্য হয়নি। তবে বিগত কয়েক বছরের মতো চামড়া নষ্ট হওয়ার দৃশ্য এবার খুব একটা দেখা যায়নি বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।
অবশেষে বাজারে কাঙ্ক্ষিত মূল্য না পাওয়ায় কুরবানিদাতারা যেমন হতাশ, তেমনি মৌসুমি ব্যবসায়ীরাও পড়েছেন ক্ষতির মুখে। সর্বোপরি সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন সেই গরিব ও মিসকিনরাই, যাদের সহায়তায় কুরবানির চামড়ার অর্থ ব্যয় হতো।