ব্যাংক খাতের ধস ঠেকাতে ৩৫ বিলিয়ন ডলার প্রয়োজন: সালেহউদ্দিন আহমেদ
অর্থনীতি ডেস্ক:
রোববার, ২৭ জুলাই ২০২৫ | অর্থ উপদেষ্টা ড. সালেহউদ্দিন আহমেদ বলেছেন, দেশের ব্যাংক খাত এখন চরম দুর্বলতার মুখে রয়েছে। আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল (আইএমএফ) অনুযায়ী, ব্যাংক খাত পুনর্গঠনে প্রয়োজন ৩৫ বিলিয়ন ডলার, যা প্রায় ৪ লাখ ২৭ হাজার কোটি টাকার সমান। অথচ এই অর্থ জোগান দেওয়া সরকারের পক্ষে প্রায় অসম্ভব।
শনিবার রাজধানীর সিরডাপ মিলনায়তনে ড. হোসেন জিল্লুর রহমান রচিত বই ‘অর্থনীতি, শাসন ও ক্ষমতা: যাপিত জীবনের আলেখ্য’-এর প্রকাশনা অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
ড. সালেহউদ্দিন বলেন, “ব্যাংক থেকে ৮০ ভাগ অর্থ ইতিমধ্যে তুলে নেওয়া হয়েছে। খাদের কিনারে দাঁড়িয়ে অর্থনীতিকে ফিরিয়ে আনার চেষ্টা চলছে। তবে ভালো প্রতিষ্ঠান দেশে এখন আর নেই বললেই চলে। গত ১৫ বছরে শুধু আইন লঙ্ঘন নয়, প্রক্রিয়াও ধ্বংস করা হয়েছে। আর সেই ব্যক্তিরাই এখনো সক্রিয়।”
তিনি আরও বলেন, “সুশাসন খুব কঠিন কাজ। সংসদ সদস্য বা মন্ত্রীদের ক্ষমতায় কোনো ‘চেক অ্যান্ড ব্যালেন্স’ নেই। রাজনৈতিক দলগুলোতেও সংস্কার দরকার। সবাই বাজেটে সুবিধা নিতে চায়, কেউ ত্যাগ করতে চায় না। এ মানসিকতা বদলাতে হবে।”
সাবেক তত্ত্বাবধায়ক সরকারের উপদেষ্টা আরও বলেন, “গবেষক, প্রশাসক, ব্যবসায়ী ও সাধারণ জনগণের মধ্যে দুরত্ব তৈরি হয়েছে। রাজনৈতিক সমঝোতা ছাড়া দেশে টেকসই উন্নয়ন সম্ভব নয়।”
ফখরুলের অভিযোগ: সুশাসন নেই, সবখানে ঘুষ
প্রকাশনা অনুষ্ঠানে সম্মানিত অতিথি হিসেবে বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, “আগে ঘুষ দিতে হতো এক লাখ টাকা, এখন পাঁচ লাখ টাকা। গতকাল এক বড় ব্যবসায়ী নিজেই এই তথ্য দিয়েছেন। কোথাও কোনো নিয়ন্ত্রণ বা জবাবদিহি নেই।”
তিনি বলেন, “রাতারাতি পরিবর্তন সম্ভব নয়, তবে গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়া বাদ দিয়ে বসে থাকাও চলবে না। দেশের ভবিষ্যতের জন্য দ্রুততম সময়ের মধ্যে গণতান্ত্রিক ব্যবস্থায় ফিরে যেতে হবে।”
এ সময় তিনি যুক্তরাষ্ট্রের ডোনাল্ড ট্রাম্পের শুল্ক নীতিকে সামনে আসা সম্ভাব্য অর্থনৈতিক বিপদের ইঙ্গিত দিয়ে বলেন, “রাজনৈতিক দলগুলোকে জনস্বার্থে দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করতে হবে।”
হোসেন জিল্লুর: ‘পরিবর্তন এককভাবে সম্ভব নয়’
সভাপতির বক্তব্যে ড. হোসেন জিল্লুর রহমান বলেন, “পরিবর্তন নিশ্চিত করার দায়ভার সকলের। এককভাবে কোনো সরকার তা করতে পারবে না। গণতন্ত্র, সক্ষম রাষ্ট্র এবং গণতান্ত্রিক চর্চা—এই তিনটি জায়গায় সংস্কার জরুরি। অতিরিক্ত ক্ষমতাধর ব্যক্তিকেন্দ্রিক রাজনীতি থেকে বেরিয়ে আসতে হবে।”
বক্তাদের অভিমত: অর্থনীতি না ক্ষমতা—প্রশ্নটা মৌলিক
অনুষ্ঠানে আলোচক হিসেবে বক্তব্য দেন অধ্যাপক মাহবুব উল্লাহ, আলতাফ পারভেজ, ড. ফাহমিদা খাতুন, খন্দকার সাখাওয়াত আলী, ভূঁইয়া আসাদুজ্জামান, হুমায়ুন কবিরসহ অনেকে।
তারা বলেন, “আমরা ক্ষমতাকে আগে রাখছি, অর্থনীতিকে নয়। গত ৫০ বছর ধরে দেশে স্বৈরতান্ত্রিক ধারা চলেছে। বিচার বিভাগ, প্রশাসন ও অর্থনীতি—সবখানে দুর্বলতা স্পষ্ট। সংস্কারের কথা বলা হলেও বাস্তবে কিছুই হচ্ছে না।”
এক বক্তা বলেন, “ব্যাংক খাতে লাখ কোটি টাকার খেলাপি ঋণ প্রমাণ করে, অর্থনীতিকে ক্ষতিগ্রস্ত করছে প্রাতিষ্ঠানিক দুর্বলতা। ব্যক্তি পরিবর্তন নয়, দরকার মৌলিক সংস্কার।”