ছাপানো টাকায় সরকারের ঋণ বেড়ে ২৭ হাজার কোটি টাকা - দিগন্ত জার্নাল

ছাপানো টাকায় সরকারের ঋণ বেড়ে ২৭ হাজার কোটি টাকা

দিগন্ত জার্নাল অর্থনীতি:

সোমবার, ২৮ জুলাই ২০২৫ | এক মাসে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের ঋণ বেড়ে ৩৫ হাজার কোটি, মোট ঋণ ছাড়াল ১.৩৩ লাখ কোটি টাকা

বিদায়ী ২০২৪–২৫ অর্থবছরের শেষ ধাপে এসে সরকার কেন্দ্রীয় ব্যাংক থেকে ছাপানো টাকায় ২৭ হাজার কোটি টাকার নতুন ঋণ নিয়েছে। মে থেকে ১৫ জুন পর্যন্ত সময়ে মোট ঋণ বেড়েছে ৩৫ হাজার কোটি টাকা

এটি মূলত বাজেট ঘাটতি পূরণের জন্য হিসাবের সমন্বয় করতে গিয়ে নেওয়া হয়। অর্থ মন্ত্রণালয় সূত্র জানায়, শুরুতে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের ঋণ কিছুটা পরিশোধ করা হলেও, শেষদিকে সেই পরিশোধ কমিয়ে বরং আগেই দেওয়া অর্থের সমপরিমাণ আবার নতুন ঋণ হিসেবে ব্যবহার করা হয়েছে।

🔍 কীভাবে ঋণ নেওয়া হলো?

  • মে মাসে কেন্দ্রীয় ব্যাংক থেকে সরকারের ঋণ পরিশোধের স্থিতি ছিল ৫০ হাজার কোটি টাকা
  • ১৫ জুনে সেটি কমে দাঁড়ায় ২৩ হাজার কোটি টাকা
  • অর্থাৎ ওই সময়ের মধ্যে পরিশোধ ২৭ হাজার কোটি টাকা কমিয়ে সেই অর্থ অন্য খাতে ব্যবহার করা হয়
  • ফলে সরকারের কেন্দ্রীয় ব্যাংক থেকে মোট ঋণের পরিমাণ দাঁড়ায় ১.৩৩ লাখ কোটি টাকা

💰 হাইপাওয়ার্ড মানি: মূল্যস্ফীতির পেছনের কারণ

বাংলাদেশ ব্যাংকের তৈরি অর্থকে ‘হাইপাওয়ার্ড মানি’ বলা হয়। একটি টাকা বাজারে প্রবেশ করলে তার multiplier effect হয় — বাজারে মুদ্রার সরবরাহ কয়েকগুণ বেড়ে যায়। এর ফলে:

  • পণ্যমূল্য বাড়ে
  • টাকার মান কমে
  • মূল্যস্ফীতির হার বৃদ্ধি পায়

এই পদ্ধতিতে অর্থ নেওয়ার ফলে গত বছরগুলিতে মূল্যস্ফীতির হার ১১.৬৬ শতাংশ এবং খাদ্য মূল্যস্ফীতি ১৪ শতাংশ ছাড়িয়ে যায়। বিশেষ করে আওয়ামী লীগ সরকারের শেষ পর্যায় এবং করোনার সময় এ পদ্ধতিতে ঋণ নেওয়ার প্রবণতা ছিল চূড়ান্ত পর্যায়ে।

📉 সরকারের ব্যয়, রাজস্ব ও ঋণচিত্র

  • ২০২৫ সালের ১৫ জুন পর্যন্ত কেন্দ্রীয় ব্যাংকে সরকারের হিসাবে তহবিল ছিল না
  • ফলে আগেই পরিশোধ করা ঋণ থেকে আবার অর্থ নিয়ে ঋণের স্থিতি বাড়ানো হয়
  • রাজনৈতিক অস্থিরতা, অর্থনৈতিক মন্দা এবং রাজস্ব আয় হ্রাস—এই তিন কারণে সরকারকে অতিরিক্ত ঋণ নিতে হয়

গত দুই অর্থবছরের তুলনামূলক তথ্য:

অর্থবছরব্যাংক ঋণ (কেন্দ্রীয় + বাণিজ্যিক ব্যাংক)নন-ব্যাংক ঋণ
২০২৩–২৪৮২,৮৯৩ কোটি টাকা১২,৬১৩ কোটি টাকা
২০২৪–২৫ (১৫ জুন পর্যন্ত)৯৯,৫৯১ কোটি টাকা৪০,০০০ কোটি টাকা

🛑 ছাপানো টাকা উত্তোলনের ঘোষণা ছিল, বাস্তবে উল্টোটা

আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর, গত বছরের ৫ আগস্ট নতুন সরকার ছাপানো টাকায় ঋণ নেওয়া বন্ধের ঘোষণা দেয়। একইসঙ্গে পূর্ববর্তী ঋণ পরিশোধ শুরু হয়।

  • ১৫ মে পর্যন্ত সরকার ৫৮ হাজার কোটি টাকা পরিশোধ করে
  • তখন ঋণের স্থিতি কমে ৯৮ হাজার কোটি টাকায় নেমে আসে
  • কিন্তু রাজস্ব ঘাটতির কারণে ফের ঋণ নেওয়ার প্রবণতা শুরু হয়

⚠️ বাজারে প্রভাব ও আশঙ্কা

  • কেন্দ্রীয় ব্যাংকের অতিরিক্ত অর্থপ্রবাহ মূল্যস্ফীতির আশঙ্কা বাড়িয়ে তুলেছে
  • বাণিজ্যিক ব্যাংকে তারল্য সংকট থাকায়, আবার ছাপানো টাকায় ঝুঁকছে সরকার
  • এতে অর্থনীতিতে দীর্ঘমেয়াদি স্থিতিশীলতা হুমকির মুখে পড়তে পারে

বর্তমানে কেন্দ্রীয় ব্যাংক থেকে ছাপানো টাকায় নেওয়া ঋণের স্থিতি বেড়ে দাঁড়িয়েছে প্রায় ১.৩৩ লাখ কোটি টাকায়। সরকারের বাজেট ঘাটতি পূরণে এই অস্বাভাবিক ঋণ ব্যবস্থা দীর্ঘমেয়াদে মূল্যস্ফীতি বাড়াবে, ব্যাংক খাতকে চাপে ফেলবে এবং বাজারে অস্থিরতা তৈরি করবে— অর্থনীতিবিদরা এমন আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন

an adbox will go here