মার্কিন পাল্টা শুল্কে সুবিধাজনক অবস্থানে বাংলাদেশি পোশাক
আন্তর্জাতিক ডেস্ক:
মঙ্গলবার (১৯ আগস্ট ২০২৫), বিভিন্ন দেশের পণ্যের ওপর মার্কিন পাল্টা শুল্ক কাঠামোয় এ পর্যন্ত যতটুকু পরিবর্তন হয়েছে, তাতে তুলনামূলক সুবিধাজনক অবস্থানে আছে বাংলাদেশ। এর ফলে বাংলাদেশের তৈরি পোশাকের প্রতি আগ্রহ বেড়েছে মার্কিন ব্র্যান্ড-ক্রেতাদের। পুরোনো ব্র্যান্ড-ক্রেতাদের অনেকেই ফিরছে, নতুন ক্রেতারাও খোঁজখবর নিচ্ছে।
আগামী শীতের জন্য আসা রপ্তানি আদেশের কাজ শেষ। গ্রীষ্মের জন্য রপ্তানি আদেশ আগামী মাসের মাঝামাঝি থেকে আসা শুরু হবে। সাধারণত এ সময় রপ্তানি আদেশ কম থাকে, তবে এবার উল্লেখযোগ্য পরিমাণ আদেশ আসছে, যার একটি বড় অংশ ভারতসহ অন্য দেশ থেকে স্থানান্তর হয়ে আসা।
ফ্লোরেন্স গ্রুপের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মোহাম্মদ হোসনে কামার আলম বলেন, নতুন করে রপ্তানি আদেশ আসছে। এক বছর ধরে তাঁর কারখানায় মার্কিন কোনো ক্রেতার কাজ ছিল না, কিন্তু গত এক সপ্তাহে নতুন-পুরোনো অনেক ক্রেতা আলোচনা শুরু করেছে। এরই মধ্যে তিনি ১০ লাখ পিসের একটি রপ্তানি আদেশ পেয়েছেন, যা আগে ভারত থেকে নেওয়া হতো। ৫০ শতাংশ পাল্টা শুল্কের কারণে ভারত থেকে আদেশ প্রত্যাহার করে আনা হয়েছে বলে জানান তিনি।
ট্রাম্প প্রশাসন বাংলাদেশের পণ্যে প্রথমে ৩৭ শতাংশ এবং পরে ৩৫ শতাংশ পাল্টা শুল্ক আরোপের ঘোষণা দিলেও আলোচনার পর তা কমে ২০ শতাংশে নেমেছে। ভারতের পণ্যে ৫০ শতাংশ, ভিয়েতনামের পণ্যে ২০ শতাংশ এবং চীনের পণ্যে প্রায় ৭৫ শতাংশ শুল্ক আরোপ করেছে যুক্তরাষ্ট্র।
এ পরিস্থিতিতে লাসভেগাসে বিশ্বের সর্ববৃহৎ টেক্সটাইল প্রদর্শনীতে অংশ নিয়ে বাংলাদেশের প্রতিষ্ঠানগুলোও ইতিবাচক সাড়া পাচ্ছে। নারায়ণগঞ্জভিত্তিক প্যাসিফিক সোয়েটার্সের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মোহাম্মদ রাশেদ জানান, প্রথম দিনেই অনেক ক্রেতা রপ্তানি আদেশ নিয়ে আলোচনা করেছে। আগে বন্ধ হয়ে যাওয়া কাজও পুনর্বহালের পথে।
ঢাকাভিত্তিক মার্কিন বায়িং হাউস লিয়াং ফ্যাশনের এক শীর্ষ কর্মকর্তা জানান, শুল্ক হ্রাসের ঘোষণার দিনই একটি মার্কিন ব্র্যান্ড নতুন করে ৭৬ হাজার ৬০০ পিস লং প্যান্ট ও শর্টসের রপ্তানি আদেশ চালু করেছে। আগামী কয়েক সপ্তাহে উল্লেখযোগ্য পরিমাণ রপ্তানি আদেশ আসবে বলে আশা করা হচ্ছে।