টিসিবির ভ্রাম্যমাণ ট্রাকে দীর্ঘ সারি, বিশৃঙ্খলায় ভোগান্তি - দিগন্ত জার্নাল

টিসিবির ভ্রাম্যমাণ ট্রাকে দীর্ঘ সারি, বিশৃঙ্খলায় ভোগান্তি

টিসিবি ট্রাকসেল ২০২৫, টিসিবি নিত্যপণ্য, টিসিবি ট্রাকে বিশৃঙ্খলা, সাশ্রয়ী মূল্যে তেল ডাল চিনি, টিসিবি ভ্রাম্যমাণ ট্রাক ঢাকা, ট্রাকসেল ভোগান্তি

দিগন্ত জার্নাল অর্থনীতি:

বৃহস্পতিবার, ১১ সেপ্টেম্বর ২০২৫ | রাজধানীতে টিসিবির (ট্রেডিং করপোরেশন অব বাংলাদেশ) ভ্রাম্যমাণ ট্রাকে নিত্যপণ্য বিক্রির শেষ পর্যায়েও ক্রেতাদের ভিড় কমছে না। সীমিত সরবরাহের কারণে লাইনে দাঁড়িয়ে থেকেও অনেকেই পণ্য না পেয়ে খালি হাতে ফিরছেন। অধিকাংশ ট্রাকের সামনে নারী-পুরুষের বিশৃঙ্খলা, দীর্ঘ অপেক্ষা ও হুড়োহুড়ি এখন নিয়মিত দৃশ্য হয়ে দাঁড়িয়েছে। মঙ্গলবার রাজধানীর বিভিন্ন বিক্রয় পয়েন্ট ঘুরে এমন চিত্র দেখা গেছে।

টিসিবির কার্যক্রমে সয়াবিন তেল, মসুর ডাল ও চিনি বিক্রি হচ্ছে। তবে সরবরাহের তুলনায় চাহিদা এত বেশি যে বিকালের আগেই অধিকাংশ ট্রাকের পণ্য শেষ হয়ে যায়। ফলে লাইনে দাঁড়ানো বহু মানুষ পণ্য ছাড়াই ফিরে যাচ্ছেন। অভিযোগ উঠেছে, অনেকেই বারবার লাইনে দাঁড়িয়ে পণ্য নিচ্ছেন।

নিত্যপণ্যের দাম নিয়ন্ত্রণে রাখতে গত ১০ আগস্ট থেকে ঢাকাসহ চার মহানগর ও পাঁচ জেলায় সাশ্রয়ী মূল্যে ট্রাকসেল শুরু করে টিসিবি। বাজারে দাম বেড়ে যাওয়ায় নিম্নবিত্তের পাশাপাশি মধ্যবিত্তরাও লাইনে দাঁড়িয়ে পণ্য কিনছেন।

কারওয়ানবাজারে মেট্রোরেলের নিচে বিকেল ৩টার পর দেখা যায়, প্রায় ২০০ নারী-পুরুষ দীর্ঘ লাইনে অপেক্ষা করছেন। পুরুষদের লাইনে কিছুটা শৃঙ্খলা থাকলেও নারীদের লাইনে তীব্র বিশৃঙ্খলা দেখা যায়। অনেকে নিয়ম ভেঙে জোর করে পণ্য নেওয়ার চেষ্টা করছেন।

ভুক্তভোগী ওয়াহিদা বলেন, “দুই ঘণ্টার বেশি অপেক্ষা করেও পণ্য পাইনি। সংসারের খরচ বেড়েছে, ইনকাম তো বাড়েনি।” কাঁঠালবাগানের ফিরোজা বলেন, “তিন ঘণ্টা দাঁড়িয়ে থেকে অবশেষে পণ্য পেয়েছি। তবে সরবরাহ এতই কম যে অনেকেই খালি হাতে ফিরছেন।”

কারওয়ানবাজারের টিসিবি ট্রাক পয়েন্টে বিক্রেতা প্রতিষ্ঠান মেসার্স গ্রানা এন্টারপ্রাইজের স্বত্বাধিকারী ফিরোজ মাহফুজ জানান, ৫০০ জনের পণ্যের বিপরীতে হাজারো ক্রেতার ভিড় সামাল দেওয়া কষ্টকর হয়ে পড়ছে। তার দাবি, পুরুষদের চেয়ে নারীরাই বেশি বিশৃঙ্খলা করছেন এবং অনেকে একাধিকবার পণ্য নিচ্ছেন।

তদারকি কর্মকর্তা রাজ্জাক উল্লাহ পাটোওয়ারী জানান, হাতে কালি দেওয়ার পরও কিছু নারী তা মুছে আবার লাইনে দাঁড়াচ্ছেন। টিসিবির উপপরিচালক শাহাদত হোসেনও কিছু পয়েন্টে বিশৃঙ্খলার কথা স্বীকার করে বলেন, অনেক নারী একাধিকবার পণ্য কেনার চেষ্টা করছেন।

এবার ঈদুল আজহায় টিসিবি ১৩৫ টাকা দরে ভোজ্যতেল, ৮০ টাকা দরে ডাল ও ৮৫ টাকা দরে চিনি বিক্রি করেছিল। বর্তমানে সাধারণ ক্রেতারা দুই কেজি মসুর ডাল কেজি ৭০ টাকায়, দুই লিটার সয়াবিন তেল লিটার ১১৫ টাকায় এবং এক কেজি চিনি ৮০ টাকায় কিনতে পারছেন। তবে স্মার্ট ফ্যামিলি কার্ডধারীদের জন্য ভোজ্যতেল ১০০ টাকা, ডাল ৬০ টাকা ও চিনি ৭০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।

ঢাকা মহানগরে ১০ আগস্ট শুরু হওয়া এই কার্যক্রম চলবে ১৩ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত। মোট ৬০টি ট্রাকে পণ্য বিক্রি করছে টিসিবি। তবে রাজধানীর বাইরে কার্যক্রম ইতোমধ্যে ৩১ আগস্ট শেষ হয়েছে।

an adbox will go here