ইসরা ও মিরাজ
প্রবন্ধ, আয়েশা ফারহীন:
আল্লাহ তায়ালা বলেন:”তিনি পবিত্র ও মহিমাময়; যিনি তাঁর বান্দাকে রাতে মসজিদে হারাম থেকে মসজিদে আকসা সফর করিয়েছেন, যার চারপাশ বরকতময়; তাঁকে আমার নিদর্শন দেখানোর জন্য। তিনি সর্বশ্রোতা ও সর্বদ্রষ্টা।”
রাসুল সা: এর মক্কার জীবন ছিল অত্যন্ত ভয়াবহ ও দুর্যোগপূর্ণ। নির্যাতন, নিপীড়ন, চারপাশের মানুষের মিথ্যা অপবাদ ও অবজ্ঞা তাঁর জীবনকে দুর্বিষহ করে তুলেছিল। চিন্তায়, কষ্টে ও মানসিক যাতনায় নবিজী ভেঙে পড়েছিলেন, তবে আল্লাহ তায়ালা সর্বদা তাঁর পাশে ছিলেন। চারপাশ থেকে রহমতের চাদরে তাঁকে ঢেকে রাখতেন।
এই পরিস্থিতির মধ্যেই আসে ইসরা ও মিরাজের ঘটনা, যা আল্লাহর পক্ষ থেকে নবিজী সা: এর প্রতি এক বিরাট পুরস্কার হিসেবে দেখা যায়।
কুরআনে ‘ইসরা’ শব্দটি স্পষ্টভাবে উল্লেখ করা হয়েছে, যেমন উপরে উদ্ধৃত আয়াতে বর্ণনা করা হয়েছে। ‘ইসরা’ শব্দের আক্ষরিক অর্থ হলো—রাতে হাঁটাচলা করা। আল্লাহ তায়ালা নবিজীকে মক্কা থেকে বাইতুল মুকাদ্দাসে সফর করান; মসজিদে হারাম থেকে মসজিদে আকসা পর্যন্ত। এই দীর্ঘ সফরের সময়কাল ছিল কেবল কয়েক মুহূর্ত, কিন্তু তা ছিল ইলাহি মু’যিযার এক বিস্ময়কর রূপ।
এই ঘটনা হিজরতের মাত্র এক মাস আগে রবিউল আওয়াল মাসে ঘটেছিল (অধিকাংশ বিশেষজ্ঞ এমনটাই মনে করেন), তবে কিছু মত অনুযায়ী রজব মাসে ঘটেছিল, কিন্তু অধিকাংশ পন্ডিত রজব মাসকেই সঠিক সময় বলে মনে করেন।
নবিজী সা: তখন ঘুমিয়ে ছিলেন। জিবরাইল আ: একটি ‘বোরাক’ নিয়ে এলেন। বোরাক হলো খচ্চর আকৃতির একটি বাহন, যার মাধ্যমে রাসুল সা: মসজিদুল হারাম থেকে মসজিদে আকসায় নিয়ে যাওয়া হন। সেখানে সকল নবী-রাসুল অপেক্ষা করছিলেন। নবিজী সা: তাদের সাথে মিলিত হয়ে নামাজ আদায় করলেন এবং ইমামতি করলেন। যেখানে নবীরা সাওয়ারি বাঁধতেন, সেখানে বোরাককে বেঁধে রাখা হয়েছিল। সেই স্থানটি আজও ‘বোরাকের দেয়াল’ নামে পরিচিত, যদিও ইহুদিরা এটি ‘মুবকি দেয়াল’ নামে চেনে।
এরপর নবিজীকে আকাশে উঠিয়ে নেওয়া হয়। ধীরে ধীরে আসমানের সব দরজা খুলে যায়। প্রথম আসমান, তারপর দ্বিতীয়, এভাবে সমস্ত আসমানগুলি খুলে যায়। শেষ পর্যন্ত নবিজী এমন একটি জায়গায় পৌঁছান, যেখানে কলমের ধ্বনি শোনা যাচ্ছিল। সেখানেই আল্লাহ তায়ালা নবিজীর ওপর অনেক ওহি নাজিল করেন এবং আল্লাহর অনেক নিদর্শনও নবিজী প্রত্যক্ষ করেন।
এটি ছিল নবিজী সা: এর জীবনের এক গুরুত্বপূর্ণ ও রহস্যময় ঘটনা, যা তাঁর আধ্যাত্মিক উন্নতি এবং ইসলামের প্রচারের ক্ষেত্রে এক গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।