রমজানকে কেন্দ্র করে তেলের বাজারে অস্থিরতা, সংকটের আশঙ্কা
দিগন্ত জার্নাল ডেস্ক:
রমজান মাস সামনে রেখে তেলের বাজারে নতুন করে তেলেসমাতি শুরু হয়েছে। বছরের ব্যবধানে এক লাখ টনের বেশি ভোজ্যতেল আমদানি হলেও বাজারে এর তেমন কোনো প্রভাব পরেনি। উল্টো ৬-৭টি কোম্পানি তেলের বাজারে কারসাজি চালিয়ে যাচ্ছে। তারা সরবরাহ কমিয়ে কৃত্রিম সংকট সৃষ্টি করেছে, যার কারণে বোতলজাত সয়াবিন তেল প্রায় বাজারশূন্য হয়ে পড়েছে। এতে আসন্ন রমজানে সয়াবিন তেলের সংকট হতে পারে বলে শঙ্কা প্রকাশ করেছেন ক্রেতারা।
ক্রেতারা একাধিক দোকান ঘুরে লিটারে ১৯০-১৯৫ টাকায় তেল কিনছেন, যদিও সরকার নির্ধারিত মূল্য ১৭৫ টাকা। এ পরিস্থিতিতে খুচরা বিক্রেতারা তেল খুলে ড্রামে ভরে খুচরা বিক্রি করছেন ২০০-২১০ টাকায়, যা সরকারের নির্ধারিত মূল্য থেকে অনেক বেশি। এর পরিপ্রেক্ষিতে কনজুমারস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (ক্যাব) বলছে, সংকটের কোনো বাস্তব কারণ নেই, বরং ৫-৬টি কোম্পানি সয়াবিন তেলের দাম বাড়ানোর জন্য সরবরাহ কমিয়ে দিয়েছে।
এদিকে, বাংলাদেশ ট্রেড অ্যান্ড ট্যারিফ কমিশনের প্রতিবেদন অনুযায়ী, ২০২৪ সালের জানুয়ারী থেকে ৫ জানুয়ারি পর্যন্ত দেশে ১৮ লাখ ৫৭ হাজার ৫৪৮ টন ভোজ্যতেল আমদানি হয়েছে এবং দেশীয় উৎপাদন ২ লাখ ৫০ হাজার টন। তবে বাজারে বোতলজাত সয়াবিন তেলের সংকটের কারণে অনেক ব্যবসায়ী ভোজ্যতেল সরবরাহের ক্ষেত্রে সংকোচন সৃষ্টি করছে।
এছাড়া, ভোজ্যতেল প্রস্তুতকারক সংগঠনগুলোর দাবি, বর্তমানে স্বাভাবিক সময়ের চেয়ে বেশি তেল সরবরাহ করা হচ্ছে, এবং রমজানকে সামনে রেখে আরও সরবরাহ করা হবে। তবে বাস্তবে খুচরা বাজারে সেই সরবরাহের প্রভাব পড়ছে না, এবং অস্থিরতা বৃদ্ধি পাচ্ছে।