বাজারে সয়াবিন তেলের সংকট, সিন্ডিকেটের কারসাজির অভিযোগ
দিগন্ত জার্নাল ডেস্ক:
দেশে ভোজ্যতেলের কোনো সংকট না থাকলেও বাজার থেকে উধাও হয়ে গেছে বোতলজাত সয়াবিন তেল। রাজধানীর বিভিন্ন বাজার ঘুরেও মিলছে না এক লিটারের বোতল। মুদি দোকানগুলোতেও নেই তেলের সরবরাহ। ক্রেতারা আশঙ্কা করছেন, রমজানের আগে কৃত্রিম সংকট তৈরি করে দাম বাড়ানোর পাঁয়তারা চলছে। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, সরকারিভাবে ফের দাম বাড়াতে একাধিক কোম্পানি পরিকল্পিতভাবে সরবরাহ বন্ধ রেখেছে।
সরবরাহ বাড়লেও তেল নেই বাজারে
বাংলাদেশ ট্রেড অ্যান্ড ট্যারিফ কমিশনের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, দেশে বার্ষিক ভোজ্যতেলের চাহিদা ২৩-২৪ লাখ টন। এর মধ্যে রমজানে চাহিদা থাকে ৩ লাখ টন। ২০২৩ সালের জানুয়ারি থেকে ২০২৪ সালের জানুয়ারি পর্যন্ত আমদানি হয়েছে ১৮ লাখ ৫৭ হাজার ৫৪৮ টন। দেশে উৎপাদিত হয়েছে ২ লাখ ৫০ হাজার টন। বর্তমানে পাইপলাইনে আছে ৮ লাখ ১২ হাজার ৫৬৫ টন। আন্তর্জাতিক বাজারে দাম কমলেও দেশে বোতলজাত সয়াবিন তেল মিলছে না।
চট্টগ্রাম কাস্টমস সূত্রে জানা গেছে, চলতি অর্থবছরে চট্টগ্রাম বন্দর দিয়ে আমদানি হওয়া ভোজ্যতেলের পরিমাণ ২২ লাখ ৭০ হাজার ২৮৯ টন, যা আগের বছরের তুলনায় এক লাখ টন বেশি।
বাজারে হাহাকার, অতিরিক্ত দামে বিক্রি খোলা তেল
রাজধানীর জিনজিরা, নয়াবাজার, কাওরান বাজারসহ বিভিন্ন বাজার ঘুরে দেখা গেছে, কোথাও বোতলজাত সয়াবিন তেল নেই। কাওরান বাজারের একটি দোকানে পাওয়া গেলেও সেটির গায়ে মূল্য লেখা ছিল না। দোকানিরা ১৯৫ টাকায় বিক্রি করছেন, যা সরকার নির্ধারিত ১৭৫ টাকার চেয়ে বেশি। খোলা সয়াবিন তেলের সরকার নির্ধারিত দাম ১৫৭ টাকা হলেও বিক্রি হচ্ছে ২০০-২২০ টাকায়।
বিভিন্ন বাজারে তেল কিনতে এসে ক্রেতারা হতাশা প্রকাশ করেছেন। একাধিক ব্যবসায়ী জানিয়েছেন, ৬-৭টি কোম্পানি চার মাস ধরে সরবরাহ বন্ধ রেখেছে। তারা দাম বাড়ানোর জন্য কৃত্রিম সংকট তৈরি করছে।
সিন্ডিকেটের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি
কনজুমারস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (ক্যাব) ভাইস প্রেসিডেন্ট এসএম নাজের হোসাইন অভিযোগ করেছেন, কিছু কোম্পানি দাম বাড়ানোর আগে সরবরাহ বন্ধ করে বাজার নিয়ন্ত্রণ করছে। সরকার দাম বাড়ালেও তারা পর্যাপ্ত সরবরাহ নিশ্চিত করছে না।
জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের মহাপরিচালক মোহাম্মদ আলীম আখতার খান বলেছেন, বাজারে রাজনৈতিক দুর্বৃত্তায়নের প্রভাব রয়েছে। কিছু ব্যবসায়ী সরবরাহ বন্ধ রেখে কৃত্রিম সংকট তৈরি করছে। বিষয়টি তদন্তের জন্য কমিটি গঠন করা হবে।
তবে বাংলাদেশ ভেজিটেবল অয়েল রিফাইনার্স অ্যান্ড বনস্পতি ম্যানুফ্যাকচারার্স অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি মোস্তফা হায়দার দাবি করেছেন, সংকটের কোনো কারণ নেই, বরং তারা স্বাভাবিক সময়ের তুলনায় বেশি সরবরাহ করছেন। সিটি গ্রুপের পরিচালক বিশ্বজিৎ সাহাও একই দাবি করেছেন।
(সংকটের মূল কারণ তদন্ত করে দিগন্ত জার্নাল আরও বিস্তারিত প্রতিবেদন প্রকাশ করবে।)