বিএসইসি চেয়ারম্যান রাশেদ অবরুদ্ধ অবস্থায় চার ঘণ্টা - দিগন্ত জার্নাল

বিএসইসি চেয়ারম্যান রাশেদ অবরুদ্ধ অবস্থায় চার ঘণ্টা

দিগন্ত জার্নাল ডেস্ক:

বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনের (বিএসইসি) চেয়ারম্যান খোন্দকার রাশেদ মাকসুদের বিরুদ্ধে ক্ষোভে ফুঁসে উঠেছেন প্রতিষ্ঠানটির জুনিয়র কর্মকর্তারা। বুধবার সকাল থেকে বিএসইসি কার্যালয়ের সামনে অবস্থান নিয়ে তারা স্লোগান দিতে থাকেন এবং চেয়ারম্যানসহ তিন কমিশনারকে চার ঘণ্টা অবরুদ্ধ করে রাখেন।

বিক্ষোভের কারণ ও উত্তপ্ত পরিস্থিতি

বিক্ষোভকারীদের অভিযোগ, বিএসইসি চেয়ারম্যানের নেতৃত্বে কমিশন পরিচালনায় অদক্ষতা, দুর্নীতি, অপেশাদার আচরণ, অধীনস্থদের প্রতি খারাপ ব্যবহার এবং নির্বাহী পরিচালক সাইফুর রহমানকে বাধ্যতামূলক অবসরে পাঠানো—এসব কারণে প্রতিষ্ঠানটির অভ্যন্তরে ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।

বেলা সাড়ে ১১টার দিকে বিএসইসি চেয়ারম্যান ও কমিশনাররা চতুর্থ তলায় বৈঠক করছিলেন। এ সময় বিক্ষুব্ধ কর্মকর্তা-কর্মচারীরা পঞ্চম তলায় নেমে আসেন এবং পুরো কমিশন ঘেরাও করেন। বিএসইসি ভবনের মূল ফটকে তালা লাগিয়ে দেওয়া হয়। ফলে ভবনের কেউ ভেতরে ঢুকতে বা বাইরে যেতে পারেননি। দুপুর ১টার দিকে বিক্ষোভকারীরা চেয়ারম্যানের পদত্যাগের দাবিতে স্লোগান দিতে থাকেন।

সংঘর্ষ ও পুলিশের হস্তক্ষেপ

পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে যৌথবাহিনী ঘটনাস্থলে পৌঁছে লাঠিচার্জ করে। এতে বিএসইসির কয়েকজন কর্মকর্তা আহত হন এবং তাদের হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। পরে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা চেয়ারম্যান ও কমিশনারদের উদ্ধার করেন এবং বিকেলের দিকে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আসে।

বিক্ষোভকারীরা ঘোষণা দিয়েছেন, তাদের দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত তারা কর্মবিরতি চালিয়ে যাবেন।

শেয়ারবাজারে অস্থিরতা ও বিনিয়োগকারীদের বিক্ষোভ

শেয়ারবাজারে চলমান অস্থিরতার জন্য অনেকে বিএসইসির বর্তমান নেতৃত্বকে দায়ী করছেন। গত ছয় মাসে ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের (ডিএসই) মূল্যসূচক প্রায় ১,০০০ পয়েন্ট কমেছে, বাজারমূলধন কমেছে ৬০ হাজার কোটি টাকা।

বুধবার বিএসইসির সামনে বিনিয়োগকারীরাও বিক্ষোভ করেন এবং চেয়ারম্যানের পদত্যাগ দাবি করেন। অভিযোগ রয়েছে, কমিশনের বর্তমান চেয়ারম্যান খোন্দকার রাশেদ মাকসুদ বাজার থেকে বিচ্ছিন্ন, অংশীজনদের সঙ্গে কথা বলেন না এবং বিনিয়োগকারীদের সঙ্গে দেখা করতেও অপারগতা দেখান।

বিএসইসি কর্তৃপক্ষের নীরবতা

বিএসইসি চেয়ারম্যান খোন্দকার রাশেদ মাকসুদের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি। বিএসইসির মুখপাত্রও এ বিষয়ে কথা বলতে অস্বীকৃতি জানিয়েছেন।

এই বিক্ষোভ ও শেয়ারবাজারের অস্থিরতার কারণে শেয়ারবাজার আরও সংকটে পড়বে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।

an adbox will go here