ভঙ্গুর অর্থনীতির চাপে এলডিসি উত্তরণ, নতুন রোডম্যাপের দাবি ব্যবসায়ীদের - দিগন্ত জার্নাল

ভঙ্গুর অর্থনীতির চাপে এলডিসি উত্তরণ, নতুন রোডম্যাপের দাবি ব্যবসায়ীদের

দিগন্ত জার্নাল ডেস্ক :

দেশের অর্থনীতি বর্তমানে সংকটময় পরিস্থিতির মধ্যে রয়েছে। রাজনৈতিক অস্থিরতা, শিল্পখাতে গ্যাস-বিদ্যুৎ সংকট, মূল্যস্ফীতি বৃদ্ধি, উচ্চ আমদানি শুল্ক, ঋণের সুদহার বৃদ্ধি, বেসরকারি খাতে ঋণপ্রবাহের অভাবসহ নানা কারণে ব্যবসা-বাণিজ্য মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ ও রাজস্ব আয় আশানুরূপ না বাড়ায় বিনিয়োগ স্থবির হয়ে পড়েছে, কর্মসংস্থান সৃষ্টি হচ্ছে না। এমন পরিস্থিতিতে স্বল্পোন্নত দেশের (এলডিসি) তালিকা থেকে উত্তরণ নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন উঠছে। ব্যবসায়ী ও নীতিনির্ধারকদের মতে, বর্তমান অর্থনৈতিক অবস্থা বিবেচনায় নিয়ে উত্তরণের সময়সীমা দুই থেকে তিন বছর বাড়ানো প্রয়োজন।

তবে অন্তর্বর্তীকালীন সরকার ২০২৬ সালের ২৪ নভেম্বর নির্ধারিত সময়েই এলডিসি থেকে বেরিয়ে যাওয়ার ঘোষণা দিয়েছে। প্রধান উপদেষ্টার বিশেষ সহকারী ও অর্থ মন্ত্রণালয়ের নির্বাহী ড. আনিসুজ্জামান চৌধুরী জানিয়েছেন, এলডিসি উত্তরণের সময়সীমা পুনর্বিবেচনার জন্য একটি কমিটি গঠন করা হয়েছে এবং বিভিন্ন সূচকের সঠিক তথ্য যাচাই-বাছাই করা হবে।

ব্যবসায়ীরা বলছেন, এলডিসি উত্তরণ একদিকে উন্নয়নের মাইলফলক হলেও বাংলাদেশকে নতুন চ্যালেঞ্জের মুখে ফেলবে। বিশেষ করে রপ্তানি বাণিজ্যে শুল্কমুক্ত সুবিধা হারানো, বিশ্ববাজারে প্রতিযোগিতা বৃদ্ধি, উৎপাদন ব্যয় বাড়ার মতো বিষয়গুলো অর্থনীতিতে প্রভাব ফেলবে। পরিকল্পনা বিভাগের এক সমীক্ষায় উঠে এসেছে, শুল্কমুক্ত সুবিধা হারানোর ফলে বছরে প্রায় সাত বিলিয়ন মার্কিন ডলার মূল্যের রপ্তানি ক্ষতির মুখে পড়তে পারে।

ঢাকা চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির (ডিসিসিআই) সভাপতি তাসকীন আহমেদ বলেন, ‘চলতি অর্থবছরের প্রথম প্রান্তিকে জিডিপি প্রবৃদ্ধি ১.৮ শতাংশ এবং উৎপাদন খাতের প্রবৃদ্ধি মাত্র ১.৪৩ শতাংশ ছিল, যা লক্ষ্যমাত্রার তুলনায় অনেক কম। এলডিসি উত্তরণের জন্য নির্ধারিত লক্ষ্যমাত্রা ও রোডম্যাপ পুনর্মূল্যায়ন করা জরুরি।’

বাংলাদেশ রপ্তানিকারক অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি মোহাম্মদ হাতেম বলেন, ‘বিগত সরকার যে তথ্যের ভিত্তিতে উত্তরণের পরিকল্পনা করেছিল, তা ভুল প্রমাণিত হয়েছে। এখন নতুন করে বাস্তবসম্মত রোডম্যাপ তৈরি করতে হবে, অন্যথায় ২০২৬ সালে এলডিসি থেকে বেরিয়ে যাওয়া আত্মঘাতী সিদ্ধান্ত হতে পারে।’

বিশ্লেষকদের মতে, বাংলাদেশে অর্থনৈতিক পরিকল্পনার দীর্ঘমেয়াদি দৃষ্টিভঙ্গির অভাব রয়েছে। এলডিসি উত্তরণের পর নগদ সহায়তার বিকল্প কী হবে, তা এখনও স্পষ্ট নয়। তৈরি পোশাক ছাড়াও অন্যান্য সম্ভাবনাময় খাত—ওষুধ, চামড়া, কৃষি প্রক্রিয়াজাতকরণ, সেমিকন্ডাক্টর ও তথ্যপ্রযুক্তি খাতের রপ্তানি বাড়ানোর জন্য সুস্পষ্ট নীতিমালা দরকার।

র‌্যাপিডের গবেষণা বলছে, ভিয়েতনাম ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) সঙ্গে মুক্তবাণিজ্য চুক্তি করেছে, যা বাংলাদেশের রপ্তানিতে ২১.২ শতাংশ নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে। এলডিসি থেকে উত্তরণের পর তিন বছর ইইউ বাজারে শুল্কমুক্ত সুবিধা থাকলেও, এরপর শুল্ক দিতে হবে, যা রপ্তানি প্রতিযোগিতার ক্ষেত্রে বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়াবে।

সংশ্লিষ্টদের মতে, এলডিসি উত্তরণের প্রস্তুতি নিয়ে পুনঃমূল্যায়ন জরুরি। ভুল তথ্যের ভিত্তিতে নেওয়া সিদ্ধান্ত পর্যালোচনা করে সময়সীমা বাড়ানোর পাশাপাশি একটি টেকসই রোডম্যাপ তৈরি করাই এখন প্রধান চ্যালেঞ্জ।

an adbox will go here