সিএমএসএমই ঋণে নতুন লক্ষ্য নির্ধারণ, নারী উদ্যোক্তার বিশেষ সুবিধা - দিগন্ত জার্নাল

সিএমএসএমই ঋণে নতুন লক্ষ্য নির্ধারণ, নারী উদ্যোক্তার বিশেষ সুবিধা

দিগন্ত জার্নাল ডেস্ক :

বাংলাদেশ ব্যাংক কুটির, মাইক্রো, ক্ষুদ্র ও মাঝারি (সিএমএসএমই) শিল্প খাতে ঋণ বিতরণের নতুন লক্ষ্য নির্ধারণ করেছে। নতুন নীতিমালা অনুযায়ী, ব্যক্তি পর্যায়ে প্রান্তিক অপ্রাতিষ্ঠানিক উদ্যোক্তারাও জামানতবিহীন ঋণ পাবেন। ট্রেড লাইসেন্স না থাকলেও পাঁচ লাখ টাকা পর্যন্ত ঋণ দিতে পারবে ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠান। নারী উদ্যোক্তাদের ঋণের আওতা বাড়াতে নীতিগত পরিবর্তনও এনেছে বাংলাদেশ ব্যাংক। সোমবার বাংলাদেশ ব্যাংকের এসএমই অ্যান্ড স্পেশাল প্রোগ্রামস ডিপার্টমেন্ট আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানানো হয়। এতে উপস্থিত ছিলেন নির্বাহী পরিচালক রোকন উদ্দিন, পরিচালক নওশাদ মুস্তফা, সহকারী মুখপাত্র শাহরিয়ার সিদ্দিকীসহ অন্যান্য ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা।

বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্দেশনায় বলা হয়েছে, ২০২৯ সালের মধ্যে ব্যাংকের মোট ঋণ স্থিতির ২৭ শতাংশ সিএমএসএমই খাতে দিতে হবে। বর্তমানে ২৫ শতাংশ লক্ষ্যমাত্রার বিপরীতে এ খাতে বিতরণ হয়েছে মোট ঋণের ১৯ শতাংশ। প্রতি বছর এ খাতে ঋণের পরিমাণ দশমিক ৫ শতাংশ করে বাড়ানোর নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। চলতি ২০২৫ সালের মধ্যে সিএমএসএমই খাতে ২৫ শতাংশ লক্ষ্যমাত্রা অর্জনের লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে। মেয়াদি ঋণের মেয়াদ পাঁচ বছরের পরিবর্তে সর্বোচ্চ সাত বছর করা হয়েছে। পাঁচ বছর বা তার বেশি মেয়াদি ঋণের ক্ষেত্রে প্রকল্পভেদে ৬ থেকে ১২ মাস গ্রেস পিরিয়ড দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

এছাড়া, পাঁচ লাখ টাকা পর্যন্ত সহায়ক জামানতবিহীন ঋণ প্রদানের পাশাপাশি ব্যাংক-গ্রাহক সম্পর্কের ভিত্তিতে পাঁচ লাখ টাকার বেশি ঋণ প্রদানের সুযোগ রাখা হয়েছে। নারী উদ্যোক্তাদের ক্ষেত্রে সহায়ক জামানত ছাড়া ২৫ লাখ টাকার বেশি ঋণ দেওয়ার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্বাহী পরিচালক আমির উদ্দিন জানান, ক্ষুদ্র ও মাঝারি উদ্যোক্তাদের মাধ্যমে অর্থনীতির চাকা সচল রাখতে এ উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। বর্তমানে ২২ শতাংশ নারী উদ্যোক্তা মাত্র সাত শতাংশ ঋণ পাচ্ছেন, যা বাড়াতে জামানতবিহীন ঋণের পরিমাণ বাড়ানো হয়েছে।

এসএমই অ্যান্ড স্পেশাল প্রোগ্রামস ডিপার্টমেন্টের পরিচালক নওশাদ মুস্তফা জানান, জাতীয় শিল্পনীতি ২০২২ অনুযায়ী উদ্যোক্তা নির্ধারণের মানদণ্ড হালনাগাদ করা হয়েছে এবং মাঝারি শিল্প উদ্যোগে ব্যবসা খাত অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। ব্যাংক, আর্থিক প্রতিষ্ঠান, চেম্বার ও গ্রাহকদের সুপারিশের ভিত্তিতে সিএমএসএমই ঋণের সর্বোচ্চ সীমা বাড়ানো হয়েছে। অপ্রাতিষ্ঠানিক বা প্রান্তিক উদ্যোগের জন্য সর্বোচ্চ পাঁচ লাখ টাকা এবং কুটির, ক্ষুদ্র, মাইক্রো ও মাঝারি উদ্যোগের উৎপাদনশীল খাতে সর্বোচ্চ ১০০ কোটি টাকা পর্যন্ত ঋণ দেওয়া হবে। ক্লাস্টার অর্থায়নের লক্ষ্যমাত্রা ১২ শতাংশ থেকে কমিয়ে ১০ শতাংশ নির্ধারণ করা হয়েছে, তবে নারী উদ্যোক্তাদের জন্য অর্থায়নের লক্ষ্যমাত্রা ১৫ শতাংশ অপরিবর্তিত রাখা হয়েছে। সেবা খাতের ঋণের লক্ষ্যমাত্রা ২৫ শতাংশ থেকে কমিয়ে ২০ শতাংশ এবং ব্যবসা খাতে ৩৫ শতাংশ থেকে বাড়িয়ে ৪০ শতাংশ করা হয়েছে।

an adbox will go here