মেধাবীদের দেশত্যাগ রোধে আহমাদুল্লাহর দিকনির্দেশনা
দিগন্ত জার্নাল ডেস্ক: বৃহস্পতিবার ৫ নভেম্বর ২০২৬
উচ্চশিক্ষার জন্য বিদেশে যাচ্ছেন অনেক মেধাবী তরুণ। তবে তাঁদের একটি বড় অংশ বিদেশেই স্থায়ী হচ্ছেন। এ নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন বিশিষ্ট আলেম ও দাঈ শায়খ আহমাদুল্লাহ।
সম্প্রতি নিজের ফেসবুক পেজে দেওয়া এক পোস্টে তিনি এ বিষয়ে কথা বলেন। স্টুডেন্ট ভিসা পাওয়ার পর এক তরুণের উচ্ছ্বাস তাঁকে ভাবিয়ে তোলে। তাঁর মনে প্রশ্ন জাগে, এই আনন্দ কি উচ্চশিক্ষার? নাকি বিদেশে স্থায়ী হওয়ার?
কেন বিদেশমুখী হচ্ছেন মেধাবীরা?
শায়খ আহমাদুল্লাহ বলেন, প্রতিবছর হাজার হাজার তরুণ উচ্চশিক্ষার জন্য বিদেশে যাচ্ছেন। অনেক দেশ তাঁদের পড়াশোনার সুযোগ দিচ্ছে। পাশাপাশি পড়াশোনা শেষে কাজের সুযোগও তৈরি করছে।
এছাড়া কিছু দেশে স্থায়ী বসবাসের পথও রয়েছে। ফলে অনেক শিক্ষার্থী বিদেশে থেকে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নিচ্ছেন।
তবে বিদেশে পড়াশোনা করাকে তিনি খারাপ মনে করেন না। বরং তাঁর আপত্তি শুধু উন্নত জীবনের আশায় দেশ ছেড়ে স্থায়ী হওয়ার প্রবণতা নিয়ে।
দেশের সমস্যাও দায়ী
তরুণদের দেশত্যাগের জন্য শুধু তাঁদের দায়ী করেননি শায়খ আহমাদুল্লাহ। বরং দেশের বিভিন্ন সমস্যার কথাও তুলে ধরেছেন তিনি।
তাঁর মতে, দেশে মেধার যথাযথ মূল্যায়ন হয় না। অনেক ক্ষেত্রে ঘুষ ও প্রভাব ছাড়া চাকরি পাওয়া কঠিন। পাশাপাশি দুর্নীতি, অনিয়ম ও কর্মসংস্থানের সংকট রয়েছে।
এছাড়া শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানেও নানা অস্থিরতা দেখা যায়। এসব কারণে মেধাবীরা দেশে ভবিষ্যৎ গড়ার আগ্রহ হারাচ্ছেন।
মেধা পাচার রোধে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ
মেধাবীদের দেশে রাখতে কয়েকটি পদক্ষেপের কথা বলেছেন শায়খ আহমাদুল্লাহ।
প্রথমত, যোগ্যতার ভিত্তিতে মেধার মূল্যায়ন করতে হবে। দ্বিতীয়ত, গবেষণার জন্য বরাদ্দ বাড়াতে হবে। পাশাপাশি কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি করতে হবে।
এছাড়া প্রাথমিক শিক্ষা থেকেই ধর্মীয় ও সামাজিক মূল্যবোধ শেখানোর ওপর গুরুত্ব দিয়েছেন তিনি।
সবশেষে তরুণদের উদ্দেশে একটি প্রশ্ন রেখেছেন শায়খ আহমাদুল্লাহ। সবাই যদি উন্নত জীবনের আশায় বিদেশে চলে যান, তাহলে দেশের পরিবর্তন আনবে কে?
তাঁর মতে, দেশের উন্নয়নে তরুণদের এগিয়ে আসতে হবে। কারণ, একটি দেশের অগ্রগতি অনেকটাই নির্ভর করে তরুণদের মেধা ও শ্রমের ওপর।