নগদের বিরুদ্ধে ডিজিটাল জালিয়াতির অভিযোগ, তদন্তে কেন্দ্রীয় ব্যাংক
দিগন্ত জার্নাল ডেস্ক:
বাংলাদেশ ডাক বিভাগের মোবাইল ব্যাংকিং সেবা প্রদানকারী প্রতিষ্ঠান নগদের বিরুদ্ধে বড় পরিসরে আর্থিক অনিয়ম ও ডিজিটাল জালিয়াতির অভিযোগ উঠেছে। কেন্দ্রীয় ব্যাংকের তদন্তে উঠে এসেছে, অনুমোদনহীন ই-মানি তৈরি করে প্রায় ৬৫০ কোটি টাকা বাজারে ছাড়ার পাশাপাশি আরও ২ হাজার ৩৫৬ কোটি টাকা লেনদেন অনিয়মের মাধ্যমে পরিচালিত হয়েছে। এসব কারণে যে আর্থিক ঘাটতি তৈরি হয়েছে, তার দায়ভার গিয়ে পড়েছে ডাক বিভাগের ওপর।
কেন্দ্রীয় ব্যাংকের তদন্ত প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, নগদ অনুমোদনের বাইরে ই-মানি ইস্যু করেছে এবং বিভিন্ন পরিবেশকের মাধ্যমে সরকারি ভাতার অর্থ বিতরণে অনিয়ম ঘটিয়েছে। অভিযোগ রয়েছে, সরকারি ভাতার টাকা পরিবেশকদের মাধ্যমে উত্তোলন করে আত্মসাৎ করা হয়েছে। এ অনিয়মের অভিযোগে ফেব্রুয়ারিতে কেন্দ্রীয় ব্যাংক নগদের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে মামলা করে, যা বাংলাদেশে অর্থপাচার ও অবৈধভাবে অর্থ লেনদেনের ক্ষেত্রে নজিরবিহীন।
এছাড়া দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) নগদের বিরুদ্ধে ২ হাজার ৩৫৬ কোটি টাকা আত্মসাতের অভিযোগে পৃথক মামলা করেছে।
সূত্র জানায়, নগদ পরিচালনার জন্য কেন্দ্রীয় ব্যাংকের কাছ থেকে পূর্ণাঙ্গ লাইসেন্স নেয়নি। প্রথমে ডাক বিভাগের আইন পরিবর্তন করে মোবাইল ব্যাংকিং সেবা চালু করা হয়, পরে সাময়িক লাইসেন্স পাওয়া গেলেও স্থায়ী অনুমোদন পায়নি। একপর্যায়ে নগদ ডিজিটাল ব্যাংকিং লাইসেন্স নেয়।
২০১৮ সালে ডাক বিভাগের পক্ষ থেকে কেন্দ্রীয় ব্যাংকে মোবাইল ব্যাংকিং অনুমোদনের আবেদন করা হলেও শর্ত পূরণ না করায় কেন্দ্রীয় ব্যাংক অনুমোদন দেয়নি। এরপর ২০১৯ সালে ডাক বিভাগের পরিবর্তিত আইনের আওতায় নগদ মোবাইল ব্যাংকিং সেবা চালু করে। সরকারি পৃষ্ঠপোষকতায় তৎকালীন সরকারের একাধিক প্রভাবশালী ব্যক্তি নগদের কার্যক্রমের সঙ্গে সম্পৃক্ত ছিলেন।
২০২৩ সালের ২১ আগস্ট কেন্দ্রীয় ব্যাংক নগদে প্রশাসক নিয়োগ করে এবং পরিচালনায় পরিবর্তন আনা হয়। তদন্তে বিভিন্ন অনিয়মের তথ্য উঠে আসায় সংশ্লিষ্ট বেশ কিছু কর্মকর্তাকে বরখাস্ত করা হয়েছে।
তদন্ত এখনো চলমান, এবং এ সংক্রান্ত আর্থিক লেনদেন বিশ্লেষণের মাধ্যমে চূড়ান্ত প্রতিবেদন তৈরি করছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক।